মুহাম্মদ আবুল হুসাইন
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এলো সিয়াম সাধনার মাস, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের সর্বোত্তম মাস মাহে রমজান। পবিত্র এই মাস মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে এবং গুনাহ থেকে মুক্ত রাখে। এটি কেবল উপবাস নয়, বরং রোজা, তারাবি, কুরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও সততা শিক্ষার এক অনন্য মাস। এই মাস রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। তবে এ সবই নির্ভর করে পবিত্র এ মাসটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর, এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তের সঠিক ব্যবহারের ওপর। আগ থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর। আর যথাযথ প্রস্তুতি আমরা তখনই নিতে পারবো যখন আমরা এই মাসের মর্যাদা, গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারবো।
রোজা কী?
আরবি ‘সিয়াম’ (صيام) শব্দের অর্থ বিরত থাকা, কোনো কিছু থেকে বেঁচে থাকা, আত্মসংযম করা। ইসলামের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক (ভোর) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস এবং যাবতীয় পাপ কাজ বা নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ ইবাদতকে সিয়াম পালন বা রোজা রাখা বলা হয়। এটি 'সওম' শব্দের বহুবচন।
রোজা রাখার নিয়ম
রোজা রাখার নিয়ম হল সুবহে সাদিকের আগে ঘুম থেকে উঠে রোজা রাখার সংকল্প বা নিয়ত করে সুবহে সাদিকের পূর্বে সেহরি বা খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস (যৌনতা) এবং যাবতীয় পাপ কাজ বা নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং সূর্যাস্তের পর ইফতার করা (রোজা ভাঙ্গা)।
রোজার নিয়ত
রোজার নিয়ত হলো মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার সংকল্প করা, যা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। তবে কেউ ইচ্ছে করলে মুখেও উচ্চারণ করতে পারে। যেমন: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
বাংলা অর্থ:
আমি আগামীকাল রমজানের বরকতপূর্ণ মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করছি। হে আল্লাহ, তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমার পক্ষ থেকে (এই সংকল্প ও প্রচেষ্টা) কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
রোজা উদ্দেশ্য:
রোজা রাখার উদ্দেশ্য হলো মুত্তাকী হওয়া বা তাকওয়ার গুণাবলী অর্জন করা। মুত্তাকী শব্দটি তাকওয়া শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি গুণবাচক নাম। এর অর্থ বেঁচে থাকা, নিরাপদ থাকা, বিরত থাকা। ইসলামী পরিভাষায় তাকওয়া বা পরহেজগারী বলতে বুঝায় আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের আশায় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা থেকে বিরত থাকা এবং যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তার নির্দেশ মেনে চলা বা নেক আমল করা। যারা এভাবে তাকওয়া অবলম্বন করে জীবন যাপন করে তাদেরকে মুত্তাকী বলা হয়। সুতরাং রোজার উদ্দেশ্য হল মানুষ রোজা রেখে বা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের কুপ্রবৃত্তিকে দমন বা নিয়ন্ত্রণ ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবে যাতে তার শরীর ও আত্মা পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতা লাভ করতে পারে। এটি শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস নয়, বরং চিন্তা, কথা ও কাজের পরিশুদ্ধির একটি প্রশিক্ষণ, যা সারা বছর ধরে ভালো অভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোন মুমিন মুসলিম ব্যক্তি যখন এইসব গুণাবলী অর্জন করতে সক্ষম হন তখন তাকে মুত্তাকি বলা হয়। মুত্তাকী হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা মাহে রমজানের মূল উদ্দেশ্য।
রোজার গুরুত্ব
প্রথম কথা হল রোজা রাখা ফরজ। সকল মুসলিম যারা বয়সসীমায় পৌঁছেছেন, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং যাদের স্বাস্থ্য ভালো, তাদের অবশ্যই রমজান মাসে রোজা রাখতে হবে। কেননাআল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআন মজিদে আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন - ‘হে মু’মিনগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হল, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।’ -[বাকারা : ১৮৩]
একই সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেছেন– “রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে।’ -(সূরা বাকারা আয়াত ১৮৫)
উপরোক্ত আয়াত দুটোতে রোজার গুরুত্ব, মর্যাদা, উদ্দেশ্য এবং রোজার সাথে কোরআনের সম্পর্ক বলে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে রোজা পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্যো ফরজ করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর উম্মতদের উপরে নয় পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতদের উপরও রোজা রাখা ফরজ ছিল। এ থেকেই রোজার গুরুত্ব বোঝা যায়।
এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের রোজা রাখাকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন: পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের বুনিয়াদ স্থাপিত। এগুলো হলো- ১.ঈমান- আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ’র রাসূল এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা; ২. নামাজ কায়েম করা; ৩. যাকাত প্রদান করা; ৪. রমজান মাসের রোজা রাখা এবং ৫. বাইতুল্লা’য় হজ্জ করা।
মাহে রমজানের অনন্য মর্যাদা
রোজাদারের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “মানুষ যত প্রকার নেক কাজ করে আমি তার সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ বৃদ্ধি করে দিই। কিন্তু রোজার সওয়াবের পুরস্কার স্বয়ং আমি প্রদান করব। অথবা আমি নিজেই রোজার সওয়াবের পুরস্কার।” এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে আরও উল্লেখ হয়েছে, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো নফল কাজ করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল। নবী করিম (সা) আরও ঘোষণা করেছেন, “যারা রমজান মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রোজা পালন করবে, তারা ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মা তাদের প্রসব করেছিলেন।”
হযরত সালমান ফারসী (রা.) বলেন, শাবান মাসের শেষ দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে এরূপ বক্তৃতা প্রদান করতেন: - হে মানবগণ, অত্যন্ত মর্যাদাবান ও কল্যাণকর একটি মাস তোমাদের কাছে সমাগত। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহ্ এ মাসে রোযা বা সিয়াম পালনকে ফরয করেছেন এবং এ মাসের রাতে তারাবীহ পড়াকে নফল করেছেন। (অর্থাৎ ফরয নয়, বরং সুন্নাত যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।) এ মাসের একটি নফল আমল অন্য মাসে একটা ফরয আমলের সমান। আর এ মাসের একটি ফরজ আমল অন্য মাসের ৭০ টি ফরজ আমলের সমান।
আত্মশুদ্ধির মাস রমজান
হযরত সালমান ফারসী (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু সালাম আরও বলেছেন, রমজান মাস সবর ও সহিষ্ণুতার মাস। আর সবর ও সহিষ্ণুতার প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। (মিশকাত)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ঈমান ও এহতেসাবের (আত্মসমালোচনার) সাথে রমযানের রোজা পালন করে, আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন। আর যে রমযানের রাতে ঈমান ও এহতেসাবের সাথে তারাবী নামায আদায় করবে, তার অতীতের সব পাপ আল্লাহ্ মাফ করে দেবেন। (বুখারী, মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে, সে যেন মুখ দিয়ে কোন প্রকার অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ না করে এবং অনর্থক চিৎকার ও চেঁচামেচি (ঝগড়া-ফাসাদ) না করে। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে বা তার সাথে ঝগড়া করতে উদ্যত হয়, এক্ষেত্রে তখন সে যেন বলে, আমি রোযাদার। (বুখারী, মুসলিম)
রোজা রেখেও যদি কেউ সংযমী না হয়, মিথ্যা কথা বলে ও প্রতারণা করে এবং উশৃংখল বা নিয়ন্ত্রণহীন জীবন যাপন করে; তাহলে তার রোজা রাখা কোনই কাজে আসবে না।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে রোজা রেখেও মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ (প্রতারণা) করা ছাড়তে পারেনি, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন অনেক (হতভাগা) রোযাদার রয়েছে যার সিয়াম থেকে পিপাসায় কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কোন লাভ হয় না। আর (রমযানের রাতের) নামায তারাবীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও এমন অনেকেই রয়েছে যাদের তারাবী থেকে বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করা ছাড়া আর কোন উপকার হয় না।
অর্থাৎ রোজার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করা না যায় তাহলে সারাদিন কষ্ট করে উপবাস, আর রাতে তারাবী পড়া কোন পুণ্যের কাজ বলে আল্লাহর কাছে গণ্য হবে না। এ হাদীসে অনেক রোযাদারের তৃষ্ণায় কষ্ট পাওয়া আর তারাবীতে অংশগ্রহণ করার প্রতি ইঙ্গিত প্রদর্শন করে সতর্ক করা হয়েছে।
রোজা রাখতে হবে শুধু আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য। এক্ষেত্রে লোক দেখানো বা প্রদর্শনী করাথেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, কেউ যখন রোযা পালন করে তখন তার (মুখে) তেল লাগানো উচিত, যেন তার দেহে রোযার লক্ষণ দৃষ্টিগোচর না হয়। (আল-আদাবুল মুফরাদ)
অর্থাৎ- রোযা পালনকারীর উচিত সে যেন লোক দেখানো রোযা না রাখে বা এমনভাব তার দেহে প্রকাশিত না হয়। সে যেন, যথারীতি গোসল করে দেহে তেল মালিশ করে, যেন রোযার কারণে দেহে ফেকাশেভাব দৃষ্টিগোচর না হয়। গোসল এবং তেল মালিশে এসব অবস্থার সৃষ্টি হয় না।
রমজানে ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং প্রবৃত্তির চাহিদা দমন করার মাধ্যমে willpower বা ইচ্ছাশক্তি বাড়ে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রশিক্ষণ হয়। এ মাসে লোভ, ক্রোধ, দুর্নীতি, অসততা ও সংকীর্ণতার মতো মন্দ গুণগুলো দমন করে ধৈর্য, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানোর মাধ্যমে সৎ গুণাবলীর বিকাশ লাভ হয়। গোসলের যেভাবে শরীরকে পবিত্র করা যায়, তেমনি রোজার মাধ্যমে আত্মাকে পাপ ও কলুষতা থেকে পরিষ্কার রাখা যায়। মোটকথা, রমজান মুমিনদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস, যা তাদের একটি নতুন ও উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
রমজান মাস আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস
রমজান মাস আল্লাহর নৈকট্য, রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। এ মাসে রোজা, তারাবি, কুরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, কারণ এ সময় শয়তান শৃঙ্খলিত থাকে, রহমতের দুয়ার খুলে দেওয়া হয় এবং প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পবিত্র এ মাস আত্মশুদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নতির পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে।
এই মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: প্রথম ১০ দিন রহমত ও বরকত; দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত বা মুক্তির জন্য নিবেদিত।
এই মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অশেষ রহমত ও বরকত বর্ষণ করেন। ‘রহমত' শব্দের অর্থ হলো দয়া, করুণা, অনুগ্রহ। রমজান মাসে আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো আল কোরআন, যা সমগ্র মানবজাতির মুক্তি ও এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ ও সফলতার পথ দেখায়। মাহে রমজান হলো সেই মাস যেদিন আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কুরআন নাজিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, যা সুরা বাকারাতে (২:১৮৫) স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই রমজানকে কুরআনের মাস বলা হয়
এ মাসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। তাই এ মাসে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে এক পবিত্র ভাবধারা বিরাজ করে। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এই পবিত্র মাসে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয় এবং প্রধান প্রধান শয়তানগুলোকে বন্দী রাখা হয়। তাই এ মাসে সাধারণভাবে ঈমানদারদের দিল নরম থাকে, তাদের হৃদয়, মন ও আত্মা আল্লাহ’র দিকে, মহান সৃষ্টিকর্তার দিকে রুজু থাকে। এই মাসকে বলা হয় দোয়া কবুলের মাস। এই মাসে রোজাদারের দোয়া, বিশেষ করে ইফতারের সময়ের দোয়া ও লাইলাতুল কদরের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই মাসটি বরকতে পরিপূর্ণ থাকে, কেননা এই মাসে যে কোন ভাল কাজ বা নেক আমল যেমন—নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত জিকির আজগার ও দান খয়রাতের সওয়াব ৭০ গুণ বা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পায়।
পবিত্র এই মাস অশেষ পূণ্যের মাস। মহানবী (সা.) এই মাসকে এক মহিমান্বিত ও বরকতময় মাস হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই মাসে এমন এক রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। বলাবাহুল্য, এই রাতটির নাম ক্বদরের রাত। মহানবী জানিয়েছেন, এ মাসের শেষ দশ দিনের বেজোর রাত সমূহের মধ্যেই ক্বদরের রাত নিহিত থাকে। এই শেষ দশদিনে মুসলমানদেরকে এতেকাফে বসার জন্যও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গুনাহ মাফ এবং জাহান্নাম থেকে নাজাতের আশায় এ সময় মুসলমানরা মসজিদে মসজিদে এতেকাফ করে থাকেন। ক্বদরের রাত ছাড়াও এ মাসের প্রতিটি রাত, প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত বরকতপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, এই বরকতময় সময়ের একটি মুহূর্তও হেলায় হারানো উচিত নয়। বিশেষ করে ক্বদরের রাত তো নয়ই। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ক্বদরের রাত থেকে বঞ্চিত হল তার মত হতভাগা আর নেই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন