শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
জীবন ও জগৎ সম্পর্কে মানুষের ধারণা
আস্তিক, নাস্তিক, মুসলিম, অমুসলিম, শিক্ষিত, অশিক্ষিত সব মানুষই সচেতনভাবে হোক কিংবা অবচেতন মনে; জীবন ও জগৎ সম্পর্কে একটি ধারণা কিংবা বোধ-বিশ্বাসকে লালন করে। এবং সেই ধারণা কিংবা বোধ-বিশ্বাসের আলোকে তার জীবনকে পরিচালনা করতে থাকে থাকে। কারণ, প্রত্যেক মানুষ জীবন ও জগৎ তার ধারণা বা বোধ-বিশ্বাসকে সঠিক মনে করে। এটাকে আত্মবিশ্বাসও বলা যায়। এই আত্মবিশ্বাস ছাড়া মানুষ কোন কাজ করতে পারে না, বা কোন কাজে এক কদমও অগ্রসর হতে পারে না। আসলে মানুষের আত্মবিশ্বাস ও কাজের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে তার এই আত্মবিশ্বাস। মানুষ যে কাজই করুক না কেন; সে কাজটি করার আগে তার মনে কাজটির প্রতি একটি আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছা তৈরি হয় এবং ভাল বা মন্দ যাই হোক না কেন সে কাজটি করার পক্ষে একটি মত বা যুক্তি খুঁজে পায় বা কাজটি সম্পাদন করাকে সে যুক্তিযুক্ত মনে করে। এভাবে সচেতনভাবে হোক কিংবা অবচেতন মনে - মানুষের বোধ ও বিশ্বাস তার কাজের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায়, মানুষের কাজ মূলত তার বিশ্বাসের প্রতিফলন। মানুষের জীবন ও জগৎ সম্পর্কিত এই যে জীবনবোধ বা আত্মবিশ্বাস - ইসলামী পরিভাষায় একেই বলা হয় আকিদা। প্রত্যেকটা মানুষ যার যার আকিদা অনুসারে আমল বা কাজ করে থাকে।
ঈমান
এখন, আসা যাক ঈমান সম্পর্কে। ঈমান কাকে বলে? ইসলাম মানুষের জীবন ও জগত সম্পর্কে একটি বিশিষ্ট মূল্যবোধ বা আকিদা পেশ করে থাকে। যেমন সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতে বলা হয়েছে - “রাসূল তাই বিশ্বাস করে যা তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার নিকট অবতীর্ণ হয়েছে; আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।”
এভাবে, আল কুরআনে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে যে আকিদা সমূহ পেশ করা হয়েছে, সেগুলোকে সত্য ও যথাযথ বলে মেনে নিয়ে বা অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করে, মৌখিক স্বীকৃতি দেয়া ও সে অনুসার কাজ করাকেই ঈমান বলা হয়। আর যিনি ইসলামী আক্বিদার প্রতি যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করেন তাকে বলা হয় ঈমানদার বা মু'মিন।
ঈমান ও আমলের সম্পর্ক
ঈমান অর্থ বোধ, বিশ্বাস, স্বীকৃতি দেওয়া, আস্থা স্থাপন করা। আর আমল অর্থ কাজ। ঈমান ও আমল বা বিশ্বাস ও কাজের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে তার মন, তার বোধ ও বিশ্বাস, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তার ধারণা। মানুষ যে কাজই করুক না কেন; সে কাজ করার আগে তার মনে কাজটির প্রতি একটি আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছা তৈরি হয় এবং ভাল বা মন্দ যাই হোক না কেন সে কাজটি করার পক্ষে একটি মত বা যুক্তি খুঁজে পায় বা কাজটি সম্পাদন করাকে সে যুক্তিযুক্ত মনে করে। এভাবে সচেতনভাবে হোক কিংবা অবচেতন মন - মানুষের বোধ ও বিশ্বাস তার কাজের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায়, মানুষের কাজ মূলত তার বিশ্বাসের প্রতিফলন।
ঈমান ও আমলের ব্যাপারটিও এরকম। যারা মনে করেন দুনিয়ার জীবনই একমাত্র জীবন, মৃত্যুর পর আর কোন কিছু নাই, সৃষ্টিকর্তা, পরকাল, আখেরাতের হিসাব-নিকাশ বা বেহেশত দোজখ বলে কিছু নাই; তাদের কাছে জীবনের সফলতা মানে হলো, যে কোনভাবে ধনী হওয়া, অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়া, খ্যাতিমান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করা এবং আকণ্ঠ ভোগ-বিলাশে নিমজ্জিত থাকতে পারা। তাদের সমস্ত মনোযোগ, চিন্তা-চেতনা ও কার্যাবলী দুনিয়া পাওয়ার ধান্দাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে এটাই তাদের বিশ্বাস বা জীবনভাবনা। এটাই তাদের ঈমান- আক্বিদা। তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডে; সমস্ত চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-জ্ঞানে এ আক্বিদাই প্রাধান্য পায়।
অন্যদিকে কেউ যদি মনে করেন এই দুনিয়ার জীবনই একমাত্র ও আসল জীবন নয়, বরং আখেরাতের জীবনই আসল জীবন, যেখানে দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে; তার পক্ষে হালাল-হারাম বাছ-বিচার না করে যে কোন উপায়ে ধন-সম্পদ অর্জন করার কথা ভাবা বা চিন্তা করা সম্ভব নয়।
কেউ যদি আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতে তাঁর নিকট জবাবদিহিতার ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করেন বা ঈমান আনেন তাহলে তাঁর কাজেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, তাঁকে স্মরণ করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সর্বদা তাঁর নির্দেশ মেনে চলা হল একজন ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। কেননা, একজন ঈমানদার বিশ্বাস করেন- আল্লাহর বিধান মেনে চলার মধ্যেই নিহিত রয়েছে দুনিয়ায় শান্তি ও কল্যাণ এবং আখরাতে মুক্তি। একজন মুমিন আরও বিশ্বাস করেন, আখেরাতের জীবনই আসল জীবন। দুনিয়ার জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী, যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নাই। দুনিয়ার জীবনে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তাঁর হুকুম মেনে চলবে আখেরাতের জীবনে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন, তাদেরকে চির সুখের জান্নাতে দাখিল করবেন। আর দুনিয়ার জীবনে যারা স্রষ্টার অবাধ্য হবে পরকালে আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে শাস্তি প্রদান করবেন। এই আকিদা বিশ্বাস বা বোধের কারণে ঈমানদারগণ এই পার্থিব জীবনকে একটি পরীক্ষাক্ষেত্র মনে করে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন, লোভ-লালসা, পাপাচার ও স্রষ্টার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। যার মনে আল্লাহর ভয় রয়েছে তিনি প্রতি মুহূর্তে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। হারাম খাবারের মত হারাম অর্থ উপার্জনকেও তিনি সতর্কতার সাথে এড়িয়ে যাবেন। অবৈধ পথে অফুরন্ত সুযোগ আসলেও তিনি তা সহজেই অগ্রাহ্য করতে সক্ষম হবেন। মোটকথা, ঈমানদার আর অবিশ্বাসী ব্যক্তির ঈমান বা বোধ-বিশ্বাস যেমন একরকম হবে না, তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলনও এক রকম হবে না। ঈমানদার ব্যক্তি তার সৃষ্টিকর্তা, মালিক, প্রভু ও মা'বুদ আল্লাহর পরিচয়, মর্যাদা, মাহাত্ম্য, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার সম্পর্কে এবং তাঁর সাথে বান্দাহ হিসেবে আমাদের সম্পর্ক, দায়িত্ব ও কর্তব্য কেমন হওয়া উচিত এবং এই পৃথিবী ও এর অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথেও আমাদের সম্পর্ক, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে একজন অবিশ্বাসী গাফেল থাকতে পারেন, কিন্তু একজন ঈমানদারের তো সে রকম হওয়া উচিত না। বরং তিনি এসব ব্যাপারে হবেন সচেতন। এর ফলেই তিনি হবেন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ ও অনুগত। ফলে একজন প্রকৃত ঈমানদারের প্রতিটি আমল বা কাজে তার বিশ্বাসের প্রতিফলন থাকবে। সুতরাং একজন বিশ্বাসী ও একজন অবিশ্বাসীর কর্মকাণ্ড কখন একরকম হবে না। এ বিষয়টি স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন একাধিকবার স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন - “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে, সে কি আল্লাহর আক্রোশে পতিত লোকের ন্যায় হতে পারে?!”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, “জাহান্নামগামী লোকেরা ও জান্নাতগামী লোকেরা একরকম নয়। জান্নাতগামী লোকেরাই সফলকাম।”
'নিশ্চয় এ কুরআন এমন একটি পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল এবং যে মুমিনগণ নেক আমল করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।'
আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন পবিত্র কুরআনের যত জায়গায় ঈমানের কথা বলেছেন তার প্রায় সব জায়গাতেই তিনি আমলের কথাও বলেছেন। এ থেকেই বুঝা যায় ঈমানের সাথে আমলের সম্পর্ক কত গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর ক্ষমা, মার্জনা ও দয়ার প্রশস্ততার ওপর নির্ভর করে নাজাত পাবে বলে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে আর প্রবৃত্তির দাসত্ব এবং কামনার পেছনে ছুটছে। আল কুরআনে তাদের কাজকে বোকামি ও দূর্বলতা বলে ব্যাখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- “তাদের মাঝে এমন কিছু মূর্খ লোক আছে, যাদের মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞানই নেই। তারা কেবল অলীক ধারণা পোষণ করে থাকে।"
বস্তুত, মানুষ যখন আল্লাহর কালামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায় তখন মনগড়া ধারণা কল্পনাকেই তার পথ প্রদর্শক বানিয় নেয়। যেমন, আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, তারা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন, জান্নাত তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তারা ভাল-মন্দ যাই করুক, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন। আমরাও অনেকটা তাই মনে করি। এ বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ সুবহানুহু তায়া’লা ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন- “ইয়াহূদী ও নাসারারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র ও তার প্রিয়জন’। বল, ‘তবে কেন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পাপের কারণে আযাব দেন? বরং তোমরাও তাঁর সৃষ্ট অন্য মানুষদের মতই নিতান্ত সাধারণ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা আযাব দেন। আর আসমান ও যমীন সমূহে এবং তাদের মধ্যবর্তী যা আছে তাদের বিষয়ে সকল কর্তৃত্ব আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট সকলের প্রত্যাবর্তন’।”
"আর তারা বলে, ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এটা তাদের মিথ্যা আশা। বল, ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক’। হ্যাঁ, যে নিজকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে আর সৎকর্মশীল হয়, তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই, কোন দুঃখ নেই।"
মুমিনের মর্যাদা, দায়িত্ব ও কর্তব্য:
মুমিনের মর্যাদা:
ঈমানদারদের মর্যাদা সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন পবিত্র কুরআন মজিদে বলেছেন-
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারাই সৃষ্টির সর্বোৎকৃষ্ট। তাদের রবের কাছে তাদের পুরস্কার হবে স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা থাকবে স্থায়ীভাবে। আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন তারাও আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট হয়েছে। এটি তার জন্য, যে স্বীয় রবকে ভয় করে।”
“জেনে রেখ! আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই আর তারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান আনে ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। তাদের জন্যই সুসংবাদ দুনিয়াবী জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসফলতা।”-(সূরা ইউনূস: আয়াত ৬২-৬৪)
“যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ।”
“আর যারা তাঁর নিকট আসবে মুমিন অবস্থায়, সৎকর্ম করে, তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা। (বসবাসের জন্য রয়েছে) স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর এটা হল যারা পরিশুদ্ধ হয় তাদের পুরষ্কার।”
উপরোক্ত আয়াতগুলোতে ঈমানদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি, সফলতা, পুরষ্কার ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ প্রত্যেক মুমিনকে তাঁর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পাশাপাশি প্রকৃত মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে আল্লাহকে ভয় করা, সৎ কাজ করা ও আত্মশুদ্ধির তথা আমলের পরিশুদ্ধির কথাও বলা হয়েছে।
মদীনায় আবদু'ল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিগণ রাসূলুল্লাহ’র (সঃ) সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা কি এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অর্থ জানো?" তারা বললো, "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "(এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে) আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা’বুদ (ইবাদত বা দাসত্ব পাওয়ার যোগ্য) নেই, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লার রাসূল - এ কথার সাক্ষ্যদান, নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা এবং রমযানে রোযা রাখা।" -মিশকাত
আবূ হুরাইরাহ আব্দুর রহমান ইবনু সাখর রাদিয়াল্লাহু ’আনহু কর্তৃক বর্ণিত আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ’’নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারা এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমল।’’
সুতরাং শুধু মুখে মুখে ঈমানের দাবি করাই যথেষ্ট নয়; বরং আন্তরিক বিশ্বাস ও আমল তথা কথা ও কাজের মিল থাকাও জরুরী।
অনেকে বলেন, ভাই নামাজ না পড়লে কী হবে, আমার ঈমান ঠিক আছে। জুমার নামাজে মসজিদে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভীড় থাকলেও অন্য নামাজের সময় মুসল্লি কমে যায়। এই জুমার মুসল্লিদের বাকি সাত দিন আর মসজিদে দেখা যায় না। সবচেয়ে কম মুসল্লি দেখা যায় ফজরের নামাজে। অনেকে আবার জুমার নামাজও পড়ে না, তবে ঈদের নামাজে দামি পাঞ্জাবি পড়ে ঈদগাহে নামাজ পড়েন এবং কুরবানির সময় বড় বড় পশু কুরবানি দেন। অর্থাৎ - ইবাদত-বন্দেগী হয়ে গেছে একটা ঐচ্ছিক ব্যাপার, আল্লাহর বান্দারা যে যার ইচ্ছে মত ইবাদতের নামে আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে; কিন্তু আল্লাহ কীভাবে বান্দার আনুগত্য দাবি করেন সেদিকে কেউ ভ্রুক্ষেপ করছে না। আবার আমাদের সমাজে লেবাস-সুরতে ইবাদত বন্দেগী ও দান-সদকায় এমন ‘ধার্মিক'র অভাব নেই; যারা আয় রোজগারে হালাল-হারামের বাছ-বিচার করেন না। তারাও নিজেদেরকে ঈমানদার মনে করেন। এখন কথা হলো, যে কেউ মনে মনে নিজেকে মুমিন-মুসলমান মনে করতেই পারেন, বিশ্বাস করার অধিকার সবারই রয়েছে। একজন অমুসলিমও মনে মনে আল্লাহকে প্রভু হিসেবে বিশ্বাস করতে পারেন। কিন্তু প্রকৃত মুমিন হতে হলে তাকে অবশ্যই আন্তরিক বিশ্বাসের পাশাপাশি প্রকাশ্যে মৌখিক স্বীকৃতি ও বাস্তবে আমল করতে হবে। মুখে মুখে যিনি আল্লাহকে নিজের প্রভু বলে স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তাকে বাস্তবেও আআল্লাহর প্রভুত্ব মানতে হবে। আর দাসত্ব কখনো নিজের খেয়াল-খুশিমত হয় না, বরং দাসত্ব মালিকের ইচ্ছামত করতে হয়। আমরা যদি আমাদের খেয়াল-খুশি মত লোক দেখানো ইবাদত করি, আর হারাম খাওয়া, অন্যকে ঠকানো, মিথ্যা, প্রতারণা, জুলুম, অন্যায়, অবিচার, অন্যের হক নষ্ট করে অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত না হই, তাহলে আমরা আসলে প্রবৃত্তির গোলামে পরিণত হব। এ অবস্থায় আমরা যতই নিজেকে মুমিন মুসলমান মনে করি তাতে কোন লাভ হবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে, সেই প্রকৃত বুদ্ধিমান। আর যে ব্যক্তি নিজেকে কুপ্রবৃত্তির গোলাম বানায় অথচ আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা করে, সেই নির্বোধ ও ব্যর্থ।” তিরমিযী
আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দানকালে বলেছেন, ‘যার মাঝে আমানাতদারী নেই তাঁর মাঝে ঈমান নেই। আর যার মাঝে ওয়াদা পালন নেই তার মাঝে দীন নেই।’ -মিশকাত
আবূ হুরাইরাহ আব্দুর রহমান ইবনু সাখর রাদিয়াল্লাহু ’আনহু কর্তৃক বর্ণিত আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ’’নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারা এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমল।’’
কাজেই যাদের কথা ও কাজে তাদের ঈমান বা বিশ্বাসের প্রতিফলন থাকবে তাদের জন্যই অপেক্ষা করছে মহা সাফল্য।
আল্লাহ বলেন-
“সেদিন (হাশরের ময়দানে) তুমি মুমিন পুরুষদের ও মুমিন নারীদের দেখতে পাবে যে, তাদের সামনে ও ডান পার্শ্বে তাদের নূর (জ্যোতি) ছুটতে থাকবে। (বলা হবে) ‘আজ তোমাদের সুসংবাদ হল জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, তথায় তোমরা স্থায়ী হবে। এটাই হল মহাসাফল্য।”
ঈমানদারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য:
আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন পবিত্র কুরআন মজিদে মুমিনদেরকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ও শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন এবং তাদেরকে চিরস্থায়ী জান্নাত দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর এ প্রিয় বান্দাদের জন্য কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্যও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আসলে মুমিনের মর্যাদা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের উপরই একান্তভাবে নির্ভর করে।
ঈমানদারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন আল কুরআনে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
মুসলিম হওয়া
ঈমান আনার পর ঈমানদার ব্যক্তির প্রথম কাজ হলো মুসলিম হওয়া। মুসলিম শব্দের অর্থ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহর ইচ্ছার নিকট নিজেকে সোপর্দ করে দেয়া। অর্থাৎ একজন মানুষ যখন আল্লাহকে নিজের সৃষ্টিকর্তা, মালিক, প্রতিপালক, সর্বশক্তিমান প্রভু এবং উপাসনা, ভক্তি ও কর্তৃত্ব লাভের একমাত্র অধিকারী বলে আন্তরিক ও প্রকাশ্য মৌখিক স্বীকৃতি দিবে, তখন তার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে নিজের স্বেচ্ছাচার ত্যাগ করে আল্লাহ'র নিকট নিরঙ্কুশ আনুগত্য প্রদর্শন করে মস্তক অবনত করে আত্মসমর্পণ করা এবং কখনো অবাধ্য না হওয়া। সসর্বাবস্থায় আল্লাহ নিকট আত্মসমর্পন করা, নিজের স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রবৃত্তির দাসত্বকে বিসর্জন দিয়ে স্বেচ্ছায় সমগ্র সৃষ্টি জগতের একমাত্র ইলাহ ও রব তথা- মালিক, প্রতিপালক, প্রভূ ও উপাসক আল্লাহর ইচ্ছার নিকট নিজেকে সমর্পন বা সোপর্দ করে দেয়া।
আল্লাহ বলেন-
“হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করোনা। আর তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড় ধরো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।”
এখানে আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণভাবে আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করার মানে হচ্ছে তিনি যা আদেশ করেছেন তা যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলা এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, সতর্ক থাকা বা পরহেজ করা। এছাড়া বিশেষ কোন নির্দেশনা দেয়ার আগের বা পরের আয়াতেও আল্লাহ তাঁকে ভয় করার কথা বলে থাকেন হুশিয়ার বা সতর্ক করার জন্য, যাতে নির্দেশনাটির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়। এখানে আল্লাহকে ভয় করতে বলার পরের আয়াতটিতে বলা হয়েছে, ‘মুসলিম’ না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ - মুসলিম হওয়ার বিষয়টাকে যথাযথ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে, এ ব্যাপারে কোন শৈথিল্য দেখানো চলবে না। মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ না করার ব্যাপারে চরম সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ এমন অবস্থায় যেন আমাদের মৃত্যু না হয় যখন আমরা মুসলিম (আত্মসমর্পনকারী) অবস্থায় থাকবো না। অর্থাৎ আমাদেরকে সর্বাবস্থায় আআত্মসমর্পণকারির হালতে থাকতে হবে, আল্লাহর অনুগত বান্দা হয়ে থাকতে হবে; এক মুহূর্তের জন্যও অবাধ্য হওয়া যাবে না; কারণ আমাদের মৃত্যু কখন হবে তা আমরা জানি না। তাই আমাদের মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় না হয় যখন আমরা থাকব কুফরির হালতে, আল্লাহর অবাধ্য ও নাফরমানির হালতে (আল্লাহ মাফ করুন); তাহলে আমরা চরম ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত হব। কেউ যদি নাফরমানির হালতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন তার তওবা আল্লাহ কবুল করবেন না।,
তবে অসাবধানতা বশত, ভুল বশত কেউ যদি কোন গুনাহ করে ফেলে এবং সম্বিত ফিরে পাওয়ার সাথে সাথে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
কুফরি করা বলতে বুঝায় আল্লাহর হুকুম মানতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা। কাজেই, কেউ যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন বা মুমিন হওয়ার দাবি করে, তখন তার পক্ষে আল্লাহ হুকুম অমান্য করা, আল্লাহর বিধান মেনে চলতে অস্বীকৃতি প্রদান করা শোভা পায় না।
সর্বাবস্থায় আদর্শের মডেল হওয়া
২। 'হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে। যদিও তা তোমাদের নিজদের কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। যদি সে বিত্তশালী হয় কিংবা দরিদ্র, তবে আল্লাহ উভয়ের ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে- পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা এড়িয়ে যাও তবে আল্লাহ তোমরা যা কর সে বিষয়ে সম্যক অবগত।' (৪:১৩৫)
৩। “হে মুমিনগণ, তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না । নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু।”
প্রথম আয়াতটি থেকে
৩। “নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়েকিনে নিয়েছেন।”
৪। "বল, ‘নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু (সবকিছুই) আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির প্রতিপালক।"
৫। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর। আর প্রত্যেকেই যেন ভেবে দেখে যে সে আগামী কালের (পরকালের) জন্য কী সঞ্চয় পাঠিয়েছে। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত। তোমরা তাদের মত হইও না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহও তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছেন; আর তারাই হল ফাসিক (পাপিষ্ঠ) ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেকবার ঈমানের তাৎপর্য সম্পর্কে বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যেই কাউকে ভালবাসলো, আল্লাহর জন্যেই কারো প্রতি শত্রুতা পোষণ করলো। আল্লাহর জন্যেই কাউকে দান করলো এবং আল্লাহর জন্যেই কাউকে দান করা থেকে বিরত থাকলো; সে ব্যক্তি তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নিলো।"-বুখারী
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল রূপে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছে।" -বুখারী, মুসলিম
মানুষ ক্রমাগত আত্মগঠন ও আত্মোন্নতির মাধ্যমে এমন এক স্তরে পৌঁছে যায় তখন তার যাবতীয় কাজকর্ম একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই সম্পাদিত হয়ে থাকে। তার প্রেম-ভালোবাসা, হিংসা ও বিদ্বেষ ইত্যাদি সবই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে হয়ে থাকে। এগুলোর কোন কিছুই নিজের নফস্ ও প্রবৃত্তির খুশির জন্য হয় না। সে যখন কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করে কিংবা কারো বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে তা আল্লাহর জন্যেই করে থাকে। পার্থিব কোন উপকারের আশায় কিংবা কোন লোভ-লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব কিংবা শত্রুতা পোষণ করে না। কোন মানুষের অবস্থা যখন এ পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন বুঝতে হবে যে, তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করেছে।
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ যখন কোন মানুষ নিজেকে আল্লাহর বন্দেগীতে লিপ্ত করে। ইসলামী শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পথ প্রদর্শক নেতা রূপে বরণ করে। স্থির ও অবিচল থেকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, আল্লাহ ছাড়া আর কারো আনুগত্য করবে না। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন বিধানের অনুসারী হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কারো নেতৃত্ব নিজের জীবনে গ্রহণ করবে না। তখন বুঝতে হবে যে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করেছে।
আমর বিন আবাসা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “ঈমান কি?" জবাবে তিনি বললেন, "সবর (ধৈর্য ও সহনশীলতা) এবং ছামাহাত (দানশীলতা, নমনীয়তা ও উদারতা) হচ্ছে ঈমান।" -মুসলিম
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন