সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবী

ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কি কখনো রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছ—এই যে কোটি কোটি তারা মিটিমিটি জ্বলছে, আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীটা গোল হয়ে সূর্যের চারপাশে ঘুরছে, এসব কীভাবে একা একা এত সুন্দর করে চলছে? চল, আজ আমরা একটা জাদুকরী আর অদ্ভুত সুন্দর সত্যি গল্প শুনি! ### এক অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবী মনে করো, তোমার কাছে এক বাক্স রঙিন লেগো ব্লক আছে। তুমি যদি বাক্সটা ঝাঁকিয়ে মেঝেতে ঢেলে দাও, সেগুলো কি নিজে নিজেই একটা সুন্দর দোতলা বাড়ি হয়ে যাবে? নিশ্চয়ই না! তার জন্য একজন বুদ্ধিমান মানুষের দরকার, যে হাত দিয়ে একটা একটা করে ব্লক জোড়া লাগাবে। আমাদের এই পৃথিবীটাও ঠিক তেমনই। এখানে আছে নদী, নীল আকাশ, সবুজ গাছপালা আর হরেক রকমের পশুপাখি। বিজ্ঞানীরা যখন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে ছোট পানির ফোঁটা দেখেন, কিংবা দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দূরের নক্ষত্র দেখেন, তাঁরা অবাক হয়ে যান! সবকিছু এত নিয়মের মধ্যে চলছে যে, মনে হয় কেউ একজন খুব যত্ন করে এই পুরো পৃথিবীটাকে সাজিয়ে রেখেছেন। ### 'প্রাণ' নামের এক গোপন রহস্য আচ্ছা বলতো, আমাদের ভেতরে যে 'প্রাণ' বা জীবন আছে, যার জন্য আমরা হাসতে পারি, কাঁদতে পারি, বন্ধুদের ভালোবাসতে পারি—সেই প্রাণটা আসলে কী? পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত ল্যাবরেটরিতে আসল 'প্রাণ' তৈরি করতে পারেননি। এমনকি বিজ্ঞানীদের কাছেও এর কোনো সঠিক উত্তর নেই। পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে, এই প্রাণের রহস্য কেবল আমাদের সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন, মানুষকে এর খুব সামান্য জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। ### গণিতের এক মজার ধাঁধা কিছু মানুষ ভাবত, কোটি কোটি বছর আগে এমনিতে একটার সাথে আরেকটা উপাদান লেগে বুঝি পৃথিবীতে প্রাণ তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ফ্রেড হোয়েল নামের একজন খুব বড় বিজ্ঞানী খাতা-কলম নিয়ে হিসাব করতে বসলেন। তিনি হিসাব করে দেখলেন, নিজে নিজে বা ভাগ্যের জোরে পৃথিবীতে প্রাণের উপাদান তৈরি হওয়া এতটাই অসম্ভব যে—একটা '১' লিখে তার পিঠে ৪০,০০০টি শূন্য বসালে যে বিশাল সংখ্যা হয়, ততবারের মধ্যে মাত্র একবার এমনটা হতে পারে! অর্থাৎ, কোনো জাদুকর ছাড়া এটা কোনোভাবেই নিজে নিজে হওয়া সম্ভব নয়। আরেকজন বিজ্ঞানী হিসাব করে দেখলেন, প্রাণের জন্য যে প্রোটিন বা আমিষ দরকার, তা যদি কোনো নিয়ম ছাড়া নিজে নিজে তৈরি হতে যেত, তবে পুরো পৃথিবীর সমান উপাদান নিয়ে কোটি কোটি বছর ধরে নাড়াচাড়া করলেও তা তৈরি হতো না। আর যদি একটুও ভুল হতো, তবে তা ভালো জিনিস না হয়ে উল্টো বিষ হয়ে যেত! ### আসল জাদুকর কে? তাহলে ভাবো, আমাদের এই পৃথিবীতে আমরা কত সহজে বেঁচে আছি! আমরা ঠিকমতো অক্সিজেন পাচ্ছি, সূর্য আমাদের আলো দিচ্ছে, পৃথিবী আমাদের খাবার দিচ্ছে। এই যে এত নিখুঁত একটা ব্যবস্থা, যেখানে সামান্য একটু ভুল হলেই সব ধ্বংস হয়ে যেত, তা কিন্তু একা একা হয়নি। এই পুরো মহাবিশ্বের একজন মহা-কারিগর আছেন। তিনি হলেন মহান আল্লাহ। তিনি কত আদর আর ভালোবাসা দিয়ে আমাদের জন্য এই পৃথিবীকে একদম পারফেক্ট বা আমাদের থাকার উপযোগী করে বানিয়েছেন। আর তাই তো রাতের আকাশের দিকে তাকালে কিংবা ভোরের পাখির গান শুনলে আমাদের মনটা এক অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরে ওঠে!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন