শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

নজরুল কাব্যে স্বাধীনতাবোধ ও বৈষম্য বিরোধী চেতনা

মুহাম্মদ আবুল হুসাইন ভূমিকা বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) কেবল একজন কবি নন, তিনি শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর কাব্যের মূল সুরই হলো স্বাধীনতা, সাম্য এবং মানবতাবাদ। তিনি বাংলা সাহিত্যের "বিদ্রোহী কবি" হিসেবে পরিচিত হলেও, তাঁর কাব্য ও কর্মজীবনে স্বাধীনতা বোধ এবং বৈষম্য বিরোধী চেতনা—উভয়ই অত্যন্ত প্রবল ও সমান্তরালভাবে প্রবাহিত হয়েছে। তিনি ছিলেন শোষণ, বঞ্চনা ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে ভারতবর্ষ ছিল তিন স্তরের বৈষম্যে জর্জরিত। বাইরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, ভিতরে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক বিভাজন, আর সমাজের গভীরে জমিদার-মহাজন-পুরোহিতের ত্রিমুখী শোষণ। নজরুল সেই সময়ে লিখতে আসেন সৈনিকের অভিজ্ঞতা, লোকগানের সুর আর কোরান- পুরাণ- বাইবেলের পাঠ নিয়ে। ফলে তাঁর কাব্যে বৈষম্য বিরোধিতা নিছক স্লোগান হয়নি, হয়ে উঠেছে মানুষকে কেন্দ্রে রাখার একটি দর্শন। স্বাধীনতাবোধ ও বৈষম্য বিরোধিতার দার্শনিক ভিত্তি নজরুলের কাছে স্বাধীনতা ছিল এক অখণ্ড সত্তা। তিনি কেবল রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক স্বাধীনতা চাননি, বরং মানুষের চিন্তা, ভাষা এবং আত্মার মুক্তি চেয়েছিলেন। নজরুল তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর কাব্যের মূল চেতনা ছিল মানুষের মর্যাদাকে সমুন্নত করা। এই কারণে তাঁর বিদ্রোহ ধ্বংসের জন্য নয়, নবসৃষ্টির জন্য। 'মানুষ' কবিতার উদ্বোধন করে কবি গেয়ে ওঠেন- গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান! নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। নজরুল কেবল পরাধীনতার অবসানই চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পরিপূর্ণ স্বাধীনতা (Swaraj)। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা: নজরুল ব্রিটিশ শাসনকে "রক্তচোষা" হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতা (১৯২১) ছিল ঔপনিবেশিক শক্তির ভিত নাড়িয়ে দেওয়া এক অনন্য সৃষ্টি। সশস্ত্র বিপ্লবের আহ্বান: তিনি পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য কেবল আবেদন-নিবেদনে বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে ছিলেন। 'ধূমকেতু' ও কারাবরণ: নজরুল তাঁর 'ধূমকেতু' পত্রিকায় ব্রিটিশ-বিরোধী প্রবন্ধ লিখে কারাবরণ করেন এবং কারাগারেও অনশন করে প্রতিবাদ জানান। প্রেরণার উৎস: নজরুল ইসলামের সৃষ্টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বৈষম্যবিরোধী প্রতিটি ন্যায্য সংগ্রামে স্বাধীনতার অদম্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর এই স্বাধীনতাবোধের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: শৃঙ্খলমুক্তির আবাহন: ‘'বিদ্রোহী' কবিতায় তিনি যখন ঘোষণা করেন— "আমি অনিয়ম উশৃঙ্খল, / আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!", তাঁর এই আহ্বান কেবল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নয়, বরং যুগ যুগ ধরে চেপে বসা ফ্যাসিবাদ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত ঘোষণা। রাজদণ্ড বনাম কবিশক্তি: কারারুদ্ধ হয়েও তিনি ব্রিটিশ রাজশক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। তাঁর 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' পাঠ করলে দেখা যায়, তিনি সত্যের প্রশ্নে কতটা নির্ভীক ছিলেন। তাঁর স্বাধীনতাবোধ এতটাই প্রখর ছিল যে, তিনি স্পষ্ট বলতে পেরেছিলেন— "শির নেহারি আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" একইসাথে নিজের ধর্মপরিচয় ও বিশ্বাস নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো প্রকার হীনমন্যতা (Inferiority Complex) ছিল না; বরং তিনি তাঁর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অত্যন্ত গৌরবের সাথে ধারণ করে বিশ্বমানবতার জয়গান গেয়েছেন। নজরুল ছিলেন একাধারে অসাম্প্রদায়িক এবং নিজ ধর্মে প্রগাঢ় বিশ্বাসী। অনেকে মনে করেন উদার হওয়া মানে নিজের পরিচয় বিসর্জন দেওয়া, কিন্তু নজরুল প্রমাণ করেছেন যে নিজের বিশ্বাসে অটল থেকেই অন্যকে শ্রদ্ধা করা সম্ভব। বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ভাবধারার গান ও কবিতার প্রকৃত প্রবর্তক নজরুল। হামদ, নাত ও গজলের মাধ্যমে তিনি মুসলিম ঐতিহ্যকে উচ্চকিত করেছেন। 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে', 'ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ' কিংবা 'মোহররমের চাঁদ এল ওই'—এর মতো সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কোনো প্রকার হীনমন্যতা ছাড়াই তাঁর মুসলিম পরিচয়কে গৌরবান্বিত করেছেন। নজরুল তাঁর কাব্যে নির্দ্বিধায় ইসলামি পরিভাষা (যেমন: ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, তকদির) ব্যবহার করেছেন, আবার একই কলমে শ্যামাসঙ্গীত বা কীর্তনও লিখেছেন। এটি তাঁর বিশ্বাসের দুর্বলতা নয়, বরং তাঁর বিশ্বাসের বিশালতা। তিনি বিশ্বাস করতেন— "মোর এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য"। অর্থাৎ, একদিকে তিনি প্রেম ও ভক্তির সুরসাধক, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার। বর্তমান বিশ্বে যখন 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিস' বা আত্মপরিচয় নিয়ে মানুষের মনে দ্বিধা কাজ করে, তখন নজরুলের এই হীনমন্যতাহীন ব্যক্তিত্ব আমাদের বড় আশ্রয়। তিনি আমাদের শেখান যে, মুসলিম পরিচয় ধারণ করেও বিশ্বজনীন হওয়া যায়। তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আজকের তরুণ প্রজন্মকে শেখায় যে, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হলে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করা চলবে না। নজরুলের বৈষম্যবিরোধী লড়াই ছিল বহুমুখী। তিনি একাধারে সাম্প্রদায়িকতা, লিঙ্গবৈষম্য এবং শ্রেণিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। ১. ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্য নজরুল বিশ্বাস করতেন মানুষের আসল পরিচয় তার মানবতায়, ধর্মে নয়। 'সাম্যবাদী' কবিতায় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন: গাহি সাম্যের গান- যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।…. "গাহি সাম্যের গান— /মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। /নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম-জাতি, /সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।" তিনি ধর্মকে অস্বীকার করেননি, বরং ধর্মের নামে তৈরি দেয়াল ভেঙেছেন। 'মানুষ' কবিতায় পূজারী দেবতার বর চায়, কিন্তু ক্ষুধার্ত ভিখারিকে দরজা বন্ধ করে দেয়। মোল্লা-পুরুত দুজনেই একই অপরাধে অভিযুক্ত। নজরুল দেখান, উপাসনালয় যখন মানুষকে ফেরায়, তখন তা আর পবিত্র থাকে না। তাঁর কাছে মন্দির, মসজিদ বা গির্জার চেয়ে মানুষের হৃদয় অনেক বেশি পবিত্র ছিল। 'কাণ্ডারি হুঁশিয়ার' কবিতায় তিনি যখন বলেন, "হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন? / কাণ্ডারি! বলো ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার", তখন তা সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার গালে এক চরম চপেটাঘাত হিসেবে আবির্ভূত হয়। ২. নারী-পুরুষের বৈষম্য নজরুল বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর উন্নয়ন নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি 'নারী' কবিতায় লেখেন, "সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই।" 'বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।' এই উচ্চারণ কেবল সহানুভূতি নয়, ইতিহাসের পুনর্পাঠ। তিনি নারীকে দাসী বা দেবী কোনোটি বানাননি, বানিয়েছেন সহযোদ্ধা। 'বারাঙ্গনা' কবিতায় পতিতাকে তিনি 'মা' বলে সম্বোধন করেন, সমাজের ভণ্ড নৈতিকতাকে প্রশ্ন করেন, কে তাকে পথে নামাল। ৩. জাতি, বর্ণ ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য 'সাম্যবাদী'তে তিনি তালিকা করেন: কে তুমি? পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো? কন্‌ফুসিয়াস্‌? চার্বাক চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো! এখানে ইউরোপীয়, ভারতীয় আদিবাসী, নাস্তিক, আস্তিক সবাইকে এক কাতারে আনা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, সকল শাস্ত্রের সার মানুষের হৃদয়ে: তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান, সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ! এই পংক্তিগুলোতে তিনি বর্ণবাদ ও সাংস্কৃতিক উচ্চ-নীচ ভেদকে সরাসরি আঘাত করেন। হৃদয়কেই তিনি কাশী, মথুরা, মদিনা, জেরুজালেম বলেন, ফলে তীর্থের একচেটিয়া অধিকার ভেঙে পড়ে। ৪. শ্রেণি বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণ নজরুল ছিলেন সর্বহারা মানুষের কবি। ধনতান্ত্রিক সমাজের শোষণ এবং শ্রমজীবী মানুষের আর্তনাদ তাঁকে ব্যথিত করত। 'কুলি-মজুর' কবিতায় তিনি শোষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন: "আসিতেছে শুভদিন, ঋণে ঋণে কোণে বেড়ে গেছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!" তিনি রাজপথের ধুলোমাখা কুলি বা কারখানার মজুরকে অবহেলা না করে তাঁদের মধ্যেই আগামীর মুক্তিদাতা খুঁজে পেয়েছেন। নজরুল 'কুলি-মজুর' কবিতায় লেখেন, "দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে।" এই দৃশ্য থেকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে কার রক্তে রাজপ্রাসাদ গড়ে। 'সর্বহারা', 'জীবন-বন্দনা' কাব্যে তিনি কৃষক, ধাঙড়, কামার, তাঁতিকে নায়ক করেন। জমিদারের খাজনা, মহাজনের সুদ, মিল-মালিকের মুনাফা, সবকিছুর বিপরীতে তিনি দাঁড় করান শ্রমের মর্যাদা। তাঁর বিদ্রোহের শর্তটিও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে বাঁধা: আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না। এখানে 'উৎপীড়িত' শব্দটি কেবল রাজনৈতিক নয়, শ্রেণিগত। যতদিন ক্ষুধার কান্না থাকবে, ততদিন কবির বিদ্রোহ থামবে না। ৫. ঔপনিবেশিক বৈষম্য 'বিদ্রোহী' প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে, অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাল সময়ে। কবিতার প্রথম স্তবক: বল বীর - বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! এই 'উন্নত শির' ব্রিটিশের সামনে নতজানু ভারতীয় মানসিকতার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে বর্ণনা করেন: আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস! ধ্বংসের লক্ষ্য স্পষ্ট, পরাধীনতার শৃঙ্খল। তিনি খোদার আসন 'আরশ' ছেদিয়া উঠার কথা বলেন, কারণ ঔপনিবেশিক শাসনও নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি ভাবত। ৬. শিল্পরূপে বৈষম্য ভাঙার কৌশল নজরুলের ভাষা নিজেই বৈষম্য বিরোধী। একই পংক্তিতে তিনি সংস্কৃত 'বজ্র', আরবি 'কেয়ামত', ফারসি 'শমশের', ইংরেজি 'সাইক্লোন' ব্যবহার করেন। ছন্দে তিনি লোকগানের ধামাইল, কীর্তন, মারফতি, গজল মিশিয়ে দেন। এই ভাষিক সংকরতা প্রমাণ করে, সংস্কৃতি কোনো এক গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। তাঁর রূপকেও বৈষম্য নেই। শিবের ডমরু, কৃষ্ণের বাঁশি, মুহম্মদের তলোয়ার, বুদ্ধের করুণা, যিশুর ক্রুশ একই কবির কল্পনায় পাশাপাশি হাঁটে। কেন আজও প্রাসঙ্গিক বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে বৈষম্যের রূপ বদলেছে, কিন্তু মূল কাঠামো রয়ে গেছে। ধর্মীয় পরিচয়ে ঘৃণা, অর্থনৈতিক বৈষম্যে ধনী-গরিবের খাদ, ডিজিটাল যুগে নতুন জাতপাত। নজরুলের 'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই' বাক্যটি তাই সংবিধানের প্রস্তাবনার মতো শোনায়। তাঁর চেতনা আমাদের শেখায়, বৈষম্য বিরোধিতা মানে সবাইকে এক রকম বানানো নয়, সবার মর্যাদাকে সমানভাবে স্বীকার করা। মন্দির-মসজিদের দরজা বন্ধ হলে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খুলে দিতে হবে, এটাই নজরুলের ব্যবহারিক সাম্য। উপসংহার নজরুল মানসে স্বাধীনতাবোধ এবং ধর্মবিশ্বাস একে অপরের পরিপূরক ছিল। তিনি নিজের শিকড়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আকাশের মতো বিশাল হওয়ার সাহস দেখাতে পেরেছিলেন। তাঁর এই হীনমন্যতাহীন বলিষ্ঠতা আজ প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য পরম অনুপ্রেরণা। একইভাবে নজরুল কাব্যে বৈষম্য বিরোধী চেতনা কোনো বিচ্ছিন্ন থিম নয়, এটি তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মেরুদণ্ড। তিনি বিদ্রোহী কারণ তিনি সাম্যবাদী, তিনি সাম্যবাদী কারণ তিনি মানুষকে ভালোবাসেন। অগ্নিবীণার আগুন, সাম্যবাদীর মন্ত্র, সর্বহারার ডাক, সব মিলে একটি সরল অথচ দুঃসাহসী প্রতিজ্ঞা তৈরি করে: মানুষকে তার ধর্ম, জাতি, শ্রেণি, লিঙ্গ দিয়ে নয়, তার মানুষ্যত্ব দিয়ে বিচার করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন