শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

আবার কি আসিলো ফিরে সেই অদ্ভুত আঁধার এক

আবার কি আসিলো ফিরে জীবনানন্দের সেই ‘অদ্ভুত আঁধার’;  নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো আকাশের বুক জুড়ে কোনো এক অচেনা বিষণ্নতা ঝুলে আছে আজ; শহরের ভাঙা রাস্তায় হাঁটে নীরব মানুষের ছায়া। ধানক্ষেতে আর শোনা যায় না রাখালের গান, বকুলের গন্ধে মেশে এক অদৃশ্য ক্লান্তি; দূরের নদীটি যেন ভুলে গেছে তার স্রোত— জলের ভেতর কেবল জমে আছে কালো নিঃশ্বাস। আমি কি তবে ফিরে এসেছি সেই চেনা পৃথিবীতে— যেখানে রোদ মানে কেবলই ছায়ার দীর্ঘশ্বাস, আর পাখিরা উড়ে যায় অজানা ভয়ের দিকে ডানার ভেতর লুকিয়ে রাখে রাতের অশ্রু? একদিন এই পথেই হেঁটেছিলাম একা, পায়ের তলায় মাটির ছিল উষ্ণ স্পন্দন; আজ  সেই মাটি যেন আবেগহীন নিথর শরীর মনে হয় কেউ সব স্বপ্ন তুলে নিয়ে গেছে গোপনে। তবু কি ফিরবো আবার, সেই নীল ধানের দেশে? যেখানে শিশির ভেজা ঘাসে লেগে থাকে জীবনের ঘ্রাণ, যেখানে অন্ধকারও ছিল মমতার মতো কোমল— ভয় নয়, ছিল শুধু নিঃশব্দ এক স্নেহের ছায়া।  হায়, আজ যেন এই আঁধার অন্যরকম; এখানে ফিরে আসা মানে হারিয়ে যাওয়া আরও গভীরে, এখানে প্রতিটি নিশ্বাসে জমে ওঠে অচেনা শূন্যতা। আবার কি আসিলো ফিরে সেই অদ্ভুত আঁধার এক অচেনা ভয়ে কেউ কথা বলে না  শুধু রাত বাড়ে, আর দূরে কোথাও একটি পাখি ডেকে ওঠে তার ডানায় লেগে থাকে অচেনা আঁধারের দাগ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন